মরুর দেশেও থেমে নেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজের সংস্কৃতি আর শিকড়কে আঁকড়ে ধরে রাখতে প্রস্তুত ওমানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় পহেলা বৈশাখ উদযাপন—এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা, যা ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে আনন্দ, প্রত্যাশা এবং উচ্ছ্বাসের এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনও পরিণত হতে যাচ্ছে এক বিশাল মিলনমেলায়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে মেলার প্রাঙ্গণ। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের নিয়ে সবাই মেতে উঠবেন এই প্রাণের উৎসবে, যেখানে প্রবাসের মাটিতেই খুঁজে পাওয়া যাবে বাংলাদেশের আবহ, ঐতিহ্য আর ভালোবাসার স্পর্শ।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে দেশীয় খাবারের বাহারি স্টল, যেখানে পাওয়া যাবে পান্তা-ইলিশ থেকে শুরু করে পিঠা-পুলি ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার। পাশাপাশি থাকবে দেশীয় হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রদর্শনী। সাংস্কৃতিক পর্বে থাকবে মনোমুগ্ধকর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, যা প্রবাসীদের মনে জাগিয়ে তুলবে শিকড়ের টান। শিশুদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা, যাতে পরিবারসহ সবাই উপভোগ করতে পারেন একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসবের আনন্দ।
এই বৃহৎ আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব, ওমান। সম্প্রতি সংগঠনটির চেয়ারম্যান আজিমুল হক বাবুল (সিআইপি)সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মেলার স্থান পরিদর্শন করেছেন। প্রস্তুতির অগ্রগতি দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং একটি সুশৃঙ্খল ও সফল আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহিম ও মোঃ আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. মোঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদারসহ বিভিন্ন উইংসের প্রতিনিধিরা। তারা সবাই এই আয়োজনকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
আয়োজকদের মতে, এই বৈশাখী মেলা শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়; এটি প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করার এক অনন্য উদ্যোগ। এই আয়োজন প্রমাণ করে—দূরত্ব যতই হোক, হৃদয়ে বাংলাদেশ সবসময়ই অটুট।
সব মিলিয়ে, ১৫ মে ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশাখী মেলা হয়ে উঠতে যাচ্ছে প্রবাসীদের প্রাণের এক মহাউৎসব, যেখানে আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকবে নস্টালজিয়া, ভালোবাসা এবং চিরচেনা বাঙালিয়ানার উজ্জ্বল উপস্থিতি।
