স্বপ্ন জয়ের কোনো সীমানা নেই, আর সেই স্বপ্নের পিছু ছুটে মরুভূমির তপ্ত বালুকেও উর্বর করে তুলেছেন নারায়ণগঞ্জের সন্তান সাইফুল ইসলাম সরকার। সুদূর সৌদি আরবের রিয়াদে আজ তিনি কেবল এক সফল ব্যবসায়ীর নাম নন, বরং হাজারো প্রবাসী তরুণের কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। রূপগঞ্জের ভোলাব ইউনিয়ন থেকে উঠে আসা এই অদম্য সাহসী মানুষটি প্রবাসের মাটিতে গেঁথেছেন সাফল্যের এক অনন্য মাইলফলক।
শূন্য থেকে শিখরে
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের সাধারণ এক যুবক ছিলেন সাইফুল ইসলাম সরকার। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। শুরুতে পথটা সহজ ছিল না; প্রতিকূল পরিবেশ আর নানা সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে হয়েছে তাকে। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে তিনি আজ রিয়াদের অন্যতম পরিচিত মুখ।
প্রবাসে এক চিলতে বাংলাদেশ: ‘জম জম রেস্টোরেন্ট’
রিয়াদের অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা গ্রানাডার এক্সিট-এইটে (Exit-8) সাইফুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘জম জম রেস্টোরেন্ট’। আধুনিক সাজসজ্জা আর দেশীয় খাবারের সুঘ্রাণে এই রেস্টোরেন্টটি এখন প্রবাসীদের প্রিয় আড্ডাস্থল। বিদেশের ব্যস্ত জীবনে এখানে এসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা খুঁজে পান এক চিলতে বাংলাদেশ। ঘরোয়া স্বাদ আর আপনজনদের সান্নিধ্যে ‘জম জম রেস্টুরেন্ট’ হয়ে উঠেছে এক মিলনমেলা।
কর্মসংস্থান ও সেবার ব্রত
সাইফুল ইসলাম সরকার কেবল নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করেননি, বরং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বর্তমানে তার এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় ২০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক। প্রবাসের মাটিতে ২০টি পরিবারের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করে তিনি দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
রেস্টুরেন্টের সাফল্যের নেপথ্যে সাইফুল ইসলামের মূল মন্ত্র হলো—খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সাধারণ প্রবাসীদের নাগালের মধ্যে দাম রাখা। মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী প্রবাসীরা যেন স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার পেতে পারেন, সেদিকেই তার সজাগ দৃষ্টি। যার ফলে প্রতিদিন অসংখ্য ক্রেতার ভিড়ে মুখরিত থাকে এই রেস্টুরেন্ট।
সততা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক
ব্যবসায়িক সাফল্যের বাইরেও সাইফুল ইসলামের সততা আর নম্রতা তাকে সর্বস্তরের প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, সততা আর পরিশ্রম থাকলে বিদেশের মাটিতেও নিজের নাম ও দেশের পতাকা উজ্জ্বল করা সম্ভব।
আজ সাইফুল ইসলাম সরকার কেবল রূপগঞ্জের গর্ব নন, তিনি লাল-সবুজের বাংলাদেশের গর্ব। তার এই সফলতার গল্প অনুপ্রেরণা যোগাবে সেইসব তরুণদের, যারা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমাচ্ছেন। সাইফুল ইসলামের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
