নিউ ইয়র্কের লাগোর্ডিয়া বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ রানওয়ে দুর্ঘটনায় এয়ার ক্যানাডা এক্সপ্রেসের দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। রবিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে অবতরণকারী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সঙ্গে রানওয়েতে থাকা পোর্ট অথরিটির একটি অগ্নিনির্বাপক যানের (এয়ারক্রাফট রেসকিউ অ্যান্ড ফায়ারফাইটিং) সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ক্যানাডার মন্ট্রিয়ল থেকে আসা সিআরজে-৯০০ মডেলের এসি-৮৬৪৬ ফ্লাইটটি যখন লাগোর্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করছিল, তখন রানওয়েতে কোনো যানবাহন আছে কি না তা জানতে চান পাইলট। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে তৎক্ষণাৎ জানানো হয় যে রানওয়েতে একটি ফায়ার ট্রাক অবস্থান করছে এবং বিমানটিকে দ্রুত থামার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ৩৯ কিলোমিটার গতিতে থাকা বিমানটি আর থামানো সম্ভব হয়নি এবং ট্রাকটির সাথে প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে।
বিমানটিতে ৭২ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। পোর্ট অথরিটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ক্যাথরিন গার্সিয়া জানিয়েছেন, সংঘর্ষে বিমানের দুই পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন। দ্রুত উদ্ধারকারী দল ৪১ জন যাত্রীকে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের অধিকাংশ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফিরে গেলেও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারি শন ডাফি সোমবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্ত সম্পন্ন করতে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তদন্তে সহযোগিতার জন্য ক্যানাডা থেকেও একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে ‘ট্রান্সপোর্ট ক্যানাডা’।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই দুর্ঘটনাকে ‘ভয়াবহ, ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ক্যানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ অ্যামেরিকার সাথে যৌথভাবে তদন্তে কাজ করছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র যোরান মামদানিও এই ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর লাগোর্ডিয়া বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়। পরে সীমিত আকারে বিমান চলাচল শুরু হলেও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। সান ফ্রান্সিসকো থেকে আসা যাত্রী স্কট হেনরিচ এবং বাল্টিমোর থেকে আসা মাইক জার্মান জানান, ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে তারা বিরক্ত হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতি মেনে নিয়ে পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন। বর্তমানে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
