ইরান ও ইযরায়েলের মধ্যকার সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সোমবার ইরানি সরকারি টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় অন্তত একজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইযরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং’ জানিয়েছে, ‘অ্যামেরিকান-জায়োনিস্ট’ সন্ত্রাসী বাহিনী দক্ষিণ ইরানের ‘পার্সিয়ান গালফ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন সেন্টার’-এর ১০০ কিলোওয়াটের একটি এএম ট্রান্সমিটারে হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। হামলায় নিহত ব্যক্তিকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রটির মহাপরিচালক। তবে হামলার পরেও কেন্দ্রটির সম্প্রচার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, সোমবার সকাল থেকেই ইযরায়েলের অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জেরুজালেম, দক্ষিণ ও মধ্য ইযরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান এই হামলায় ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ-বোমা ব্যবহার করেছে। এই ধরনের বোমাগুলো আকাশেই বিস্ফোরিত হয়ে শত শত ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়, যা বিস্তৃত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইযরায়েলের অন্তত আটটি স্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও বিস্ফোরক পড়ে আগুন লেগেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইযরায়েলের দিমোনা ও আরাদ শহরের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় বহু মানুষ আহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত রোববার থেকে ইসরায়েলে এই হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ইযরায়েলের বসতিগুলো এখন কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলারই নয়, বরং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহরও নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। যদিও উত্তর ইযরায়েলের কিছু এলাকায় সাইরেন তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষকে এখনো সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
অ্যামেরিকা ও ইযরায়েল জোট ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসলেও, তেহরানের এই পাল্টা আঘাত নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইযরায়েলের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার চরমসীমার মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
