দেশে কোনো ‘মব’ কালচার থাকবে না বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধের মত কর্মসূচিও করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি হুশিয়ার উচ্চারণ করেন।
সোমবার সংসদের প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
এর আগে রুমিন ফারহানা তার সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কপাল এমন যে মরার উপর খাঁড়ার ঘা সবসময়ই থাকে। দীর্ঘ ১৫ বছর গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতনের কালচার ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা দেখলাম ‘মব কালচার’। ২০২৪-এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫০-৩০০ এর উপরে মানুষ এই মবের খপ্পরে পড়ে নিহত হয়েছেন। আমার প্রশ্ন— এই খারাপ কালচার বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে?
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পরিসংখ্যানের বিষয়টি আমার কাছে নেই। তবে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত মবের ঘটনা ঘটেনি। আর সব কিছুকে ‘মব’ বলা ঠিক হবে না; এখানে ডেফিনেশন আলাদা করতে হবে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় হামলা, ২১শে ফেব্রুয়ারিতে সদস্যের ওপর হামলা কিংবা উত্তরায় দোকানপাট বন্ধ করা— সেগুলো কি মব হবে? সব কিছুকে এক বলা যাবে না। কিছু আছে সংগঠিত, পরিকল্পিত অপরাধ, যার বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত হয়। তবে স্পষ্ট কথা— বাংলাদেশে কোনো রকম মব কালচার আর থাকবে না। রাস্তায় কোনো দাবি নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের যে প্রবণতা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখা গিয়েছে, সেটাকে আমরা আর কখনো এলাও করব না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দাবি থাকবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো যাবে, সেমিনার বা জনসমাবেশ করা যাবে; কিন্তু সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত তার সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, পুলিশের তৃণমূলের অনেক সমস্যা রয়েছে। তাদেরকে যখন তদন্ত করতে পাঠানো হয়, কোনো খরচ থানা থেকে দেওয়া হয় না; আর যেটা দেওয়া হয় সেটা খুবই অপ্রতুল। এজন্য পুলিশের একটা কালচার প্রচলিত রয়েছে— সেটা হচ্ছে ‘ম্যানেজ করে নাও’। এই ম্যানেজ করতে গিয়ে পুলিশ দুর্নীতির বিভিন্ন কাজে কনভেনশনালি জড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে যে বাজেট দেওয়া হয় তা খরচের চেয়ে কম হওয়ার কারণে ব্যবসায়ী বা এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত মানুষ থেকে অর্থ উঠাতে হয়। হাসনাত তার প্রশ্নে পুলিশকে তাদের রুটিন দায়িত্বগুলো পালনে যথাযথ বাজেট দেওয়া হবে কিনা, যাতে তাদের ‘ম্যানেজ করে নাও’ কালচারে যেতে না হয় এবং কোনো দুর্নীতিতে যুক্ত হতে না হয়।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বাহিনীকে আরও বেশি কর্মক্ষম এবং দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্য যথাযথ বাজেট দেওয়ার বিষয়ে আমি আগামী অধিবেশনে প্রস্তাব রাখব। এটা সত্য যে পুলিশের যে পরিমাণ রিসোর্স বা বাজেট দরকার, আমাদের অর্থনীতি হয়তো তা দিতে পুরোপুরি সক্ষম নয়। তবে আমরা একটি ট্রান্সপারেন্ট এবং জবাবদিহিমূলক পুলিশের ব্যবস্থা কায়েম করতে চাই, যাতে পুলিশ ‘ম্যানেজ করার কালচার’ থেকে বেরিয়ে আসে সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
