। এ বিষয়ে দুই পক্ষের কথা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এয়ারফোর্স ওয়ানে করে মিয়ামি যাওয়ার আগে তিনি এই কথা বলেন। এর আগে হোয়াইট হাউযে কৃষকদের মাঝে এক আয়োজনে কৃষকদের জন্য নতুন ঋণ হিসেবে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কমূসূচি ঘোষণা করেন। কৃষকদের এই কর্মসূচিতে আনুমানিক ১ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই আয়োজনে, ট্রান্সজেন্ডারদের নারীদের ইভেন্টে অংশগ্রহণে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি-আইওসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চার সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে শান্তির সুড়ঙ্গ পথ দেখা যাচ্ছে। গত মাসে যুদ্ধ শুরুর সময় অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই লড়াই চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না। বর্তমান রণকৌশল ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি বলছে, ট্রাম্পের সেই হিসাব এখন কাগজে-কলমে বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।
ফ্লোরিডার মায়ামিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান এখন মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন সংকটে রয়েছে এবং তারা এই যুদ্ধের অবসান চায়। শান্তি প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে এরই মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
তবে কেবল যুদ্ধ নয়, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতের এক বিশাল মহাপরিকল্পনা। এর আগে হোয়াইট হাউযের সাউথ লনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কৃষকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। হোয়াইট হাউযের ইতিহাসে একে কৃষকদের নিয়ে আয়োজিত সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠান হিসেবে দাবি করা হয়। সেখানে তিনি কৃষি খাতের জন্য এক নতুন এবং শক্তিশালী ঋণ সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
প্রেসিডেন্টের এই নতুন কর্মসূচির আওতায় সরাসরি উপকৃত হবেন সবজি, শস্য ও বীজ চাষিরা। এর পাশাপাশি গবাদি পশু, শূকর ও পোলট্রি খামারি এবং মুদি পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও এই আর্থিক সহায়তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে তিনি স্মল বিযনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কেলি লফলারকে তার ‘তুমুল ব্যস্ততম’ সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সংস্কার কেবল ঋণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি ঘোষণা করেন, অ্যামেরিকার ইতিহাসে এবারই প্রথম সর্বোচ্চ পরিমাণ নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নতুন জ্বালানি মানদণ্ড কার্যকর হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এই খাতের হাত ধরে তৈরি হতে পারে আনুমানিক একশ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, যা দেশটির সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই বিশাল অর্থনৈতিক বিলটি যেন কংগ্রেসে দ্রুত পাস হয়, সে বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দেন প্রেসিডেন্ট। তিনি একই সাথে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। ট্রাম্পের স্পষ্ট দাবি, কৃষকদের স্বার্থে ট্রাক্টরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির দাম আরও কমাতে হবে, যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সামাজিক ও ক্রীড়াঙ্গনের এক বিতর্কিত ইস্যুতেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ট্রাম্প। ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অলিম্পিক ইভেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বা আইওসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া মোটেও সহজ ছিল না, তবে তিনি আইওসির এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে ইরানের সাথে যুদ্ধের ইতি টানার আলাপ এবং অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কৃষি ও জ্বালানি খাতে বড় ধরণের বিনিয়োগের ঘোষণা—সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধারে বিশ্ব রাজনীতি ও দেশীয় অর্থনীতিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের সাথে আলোচনার টেবিল শেষ পর্যন্ত কোনো টেকসই শান্তি চুক্তিতে রূপ নেয় কি না।
