অ্যামেরিকার ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে চলমান তীব্র নিরাপত্তা সংকট নিরসনে এক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। টিএসএ (ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কর্মীদের অনুপস্থিতিতে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে বিমানবন্দরগুলোতে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্ট মোতায়েন করেছেন তিনি। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদেরও তলব করবেন তিনি।
অ্যামেরিকার আকাশপথে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় এখন যোগ হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তা। সোমবার সকাল থেকেই অ্যাটলান্টা, শিকাগো এবং নিউ ইয়র্কের জেএফকে-র মতো প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। সিকিউরিটি বুথগুলোতে চিরাচরিত টিএসএ কর্মকর্তাদের বদলে ভিড় সামলাতে দেখা গেছে ফ্লাক জ্যাকেট এবং পিস্তলধারী আইস এজেন্টদের। যাত্রীদের লাইন নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের এই উপস্থিতি সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) বাজেট বরাদ্দ নিয়ে কংগ্রেসে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে সরকারি অচলাবস্থা চলায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিরাপত্তা কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। এর ফলে হিউস্টন, নিউ ইয়র্ক এবং অ্যাটলান্টার মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ টিএসএ কর্মী কাজে যোগ দেননি। রয়টার্সের তথ্যমতে, দেশের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ইতিমধ্যেই আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তিনি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে এই সংকটের মাঝেই সোমবার সকালে নিউ ইয়র্কের লাগোর্ডিয়া বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ রানওয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এয়ার ক্যানাডা এক্সপ্রেসের একটি জেটের সঙ্গে একটি ফায়ার ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন ডেমোক্র্যাটরা। সেনেট মাইনোরিটি লিডার চাক শুমার বিমানবন্দরে আইস সদস্য নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘অপ্রাসঙ্গিক ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে টিএসএ কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
নাগরিক অধিকার কর্মীরাও এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, আইস এজেন্টরা বিমানবন্দরের কারিগরি নিরাপত্তার জন্য মোটেও প্রশিক্ষিত নন। এছাড়া অস্ত্রধারী এই এজেন্টদের উপস্থিতি সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারগুলোর মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
টিএসএ কর্মীদের একাধিক ইউনিয়ন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর্মীদের বেতন ও জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধান না করলে এই অস্থায়ী আইস এজেন্ট দিয়ে বিমানবন্দরগুলোর অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয়। বরং এটি যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
