বর্তমানে বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হামের (রুবেলা) সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যারা আগে টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যেও নতুন সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, টিকা থাকলেও সচেতন থাকা জরুরি, কারণ ভাইরাসটি দ্রুত ছড়াচ্ছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক। এটি কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, এছাড়া সংক্রমিত জিনিস স্পর্শ করেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ৯ জনের মধ্যে প্রায় ৮ জন সংক্রমিত হতে পারেন।
হামের লক্ষণ:
- তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়া
- জ্বরের ৩–৫ দিনের মধ্যে মুখ ও কানের পেছন থেকে সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ
হাম শুধু সাধারণ জ্বর নয়। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে, যেমন: নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানপাকা, মুখে ঘা, দৃষ্টিশক্তি হারানো বা অন্ধত্ব এবং কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ।
দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাসে দুই ডোজ এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮৮% শিশু টিকা পেয়েছে। যারা এখনো টিকা পায়নি বা এক ডোজ নিয়েছে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
অভিভাবকদের করণীয়:
- শিশুকে জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন
- দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছে নিন এবং প্রয়োজনে ভিটামিন এ দিন
- শ্বাসকষ্ট, বমি, খিঁচুনি বা চোখের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করুন
- বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং ফিরে এসে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন
সবার সচেতনতা ছাড়া সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব নয়।

