আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন তুঙ্গে, তখন সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের একাধিক নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি, ২০২৬) আয়োজিত বিশাল এসব জনসভায় তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “যারা এই মুহূর্তে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে চায় এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, তারা মূলত স্বৈরাচারের ‘গুপ্তচর’ হিসেবে কাজ করছে।”
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। বছরের পর বছর ধরে এদেশের মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। আমাদের লড়াই সেই হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই।” তিনি আরও যোগ করেন, কোনো অপশক্তি যদি পর্দার আড়াল থেকে ভোট চুরির পরিকল্পনা করে, তবে সাধারণ মানুষ রাজপথে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জনগণ আজ নিজ দেশে পরবাসীর মতো বাস করছে। কথা বলার স্বাধীনতা নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের চিরতরে অবসান ঘটানো হবে।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কিছু অশুভ শক্তি পর্দার অন্তরালে থেকে বর্তমান আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এরা গণতন্ত্রের লেবাসধারী গুপ্তচর। এদের চিহ্নিত করতে হবে। যারা জনগণের ঐক্য বিনষ্ট করতে চায়, তারা দেশের শত্রু।” তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর অবহেলিত অবস্থার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যন্নোয়নে বিএনপি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেচ সুবিধা, সারের সহজলভ্যতা এবং ফসলের নায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
পরিশেষে, তারেক রহমান দেশবাসীকে ধৈর্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিজয় সুনিশ্চিত, যদি আমরা সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকি।” উত্তরবঙ্গের এই বিশাল জনসভাগুলোতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে, যা আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
