ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মাঝেই এক চমকপ্রদ খবর! ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী এক সপ্তাহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে কোনো হামলা চালাবেন না।
বিশ্ব যখন এই তীব্র শীতে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, তখন ট্রাম্পের এই বড় ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প হঠাৎ এমন কথা কেন বললেন? আর পুতিন কি সত্যিই রাজি হয়েছেন? আজকের এক্সপ্লেইনারে আমরা এই ঘটনার পেছনের সত্যতা খুঁজে বের করব।
অনেকেই জানতে চেয়েছেন ট্রাম্প এই কথাটি কোথায় বলেছেন। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে (Cabinet Meeting) ট্রাম্প সরাসরি এই দাবিটি করেন । টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, ইউক্রেনে বর্তমানে অস্বাভাবিক এবং প্রচণ্ড ঠান্ডা বা ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি কোল্ড’ চলছে ।
এই মানবিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুতিনকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে এক সপ্তাহ কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে কোনো গোলাবর্ষণ না করা হয় । ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি ব্যক্তিগতভাবে পুতিনকে অনুরোধ করেছি এবং তিনি তাতে রাজি হয়েছেন। এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি বিষয়”।
ট্রাম্পের এই দাবির প্রেক্ষাপট বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইউক্রেনের তাপমাত্রা মাইনাস ২৪ থেকে মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে । রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ হিটিং বা উষ্ণতা ছাড়াই এই শীত পার করছে ।
ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ (Nasty War) হিসেবে বর্ণনা করেছেন । ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ।
তবে মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ক্রেমলিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি । যদিও ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ পরে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অনুরোধে শুধুমাত্র কিয়েভে হামলা ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখতে পুতিন সম্মত হয়েছেন ।
এখন দেখার বিষয়, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই স্থায়ী কোনো শান্তির দিকে নিয়ে যাবে, নাকি এটি কেবলই ট্রাম্পের একটি রাজনৈতিক প্রচার কৌশল? যুদ্ধের চার বছর হতে চলল, আর এই শীতে সাধারণ মানুষের জীবন এখন সুতোয় ঝুলছে।
ট্রাম্পের এই ‘ব্যক্তিগত অনুরোধ’ যদি কাজ করে, তবে এটি হবে বিশ্ব কূটনীতিতে তার বিশাল এক প্রভাবের প্রমাণ। আপনার কী মনে হয়? ট্রাম্প কি পারবেন এই যুদ্ধ চিরতরে থামাতে?
