মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিবিসির জনপ্রিয় ‘টুডে’ প্রোগ্রামে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ।
সাক্ষাৎকারে খাতিবজাদেহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে—হয় তারা যুদ্ধের পথ বেছে নেবে, নয়তো শান্তির। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “তারা একই সাথে যুদ্ধ এবং শান্তি—দুটো জিনিস পেতে পারে না। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে এই দুটি বিষয় একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং সাংঘর্ষিক।”
লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে তিনি কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। খাতিবজাদেহর মতে, এই আগ্রাসন পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক আরও জানান, ইরান শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সকল পক্ষকে শান্তি বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে। একই সাথে তিনি প্রত্যাশা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রও যেন তাদের মিত্র দেশ ইসরায়েলকে এই একতরফা আগ্রাসন ও রক্তক্ষয়ী হামলা বন্ধে কার্যকর চাপ প্রয়োগ করে।
ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান দীর্ঘমেয়াদী আলোচনা বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কোনো আল্টিমেটাম না দিলেও কৌশলী উত্তর দেন। তিনি জানান, ইরান বর্তমানে কেবল নিজেদের স্বার্থ নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করছে। তবে ওয়াশিংটন যদি ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ যে কারো হাতেই থাকবে না, সেই ইঙ্গিতও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

