
ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রায় সুনামগঞ্জের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দুটি থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে। জগন্নাথপুর থানায় ৫ জন এবং দিরাই থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে মামলা করা হয়।
দিরাই থানার মামলার বাদী নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান, আর জগন্নাথপুর থানার মামলার বাদী নিহত আমিনুর রহমানের স্বজন হাবিবুর রহমান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
জানা যায়, ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৪৮ জনকে নিয়ে একটি রাবারের বোট গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়। মাঝপথে জ্বালানি শেষ হয়ে বোটটি পথ হারায় এবং ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। খাদ্য ও পানির অভাবে অনেকেই মারা যান, যার মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন রয়েছেন।
দুই দিন লাশ বোটে রাখার পর সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরে ২৭ মার্চ গ্রিস কোস্টগার্ড ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে দিরাইয়ের ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জন ছিলেন।
ভুক্তভোগীরা ইউরোপে যাওয়ার জন্য ১০–২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দালালদের দেন। অনেকেই জমি-সম্পদ বিক্রি করে এই টাকা জোগাড় করেন। প্রশাসন জানিয়েছে, দালাল চক্র শনাক্তে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
