
স্ত্রী ও ৯ মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন পর মানবিক বিবেচনায় জামিন পেয়েছিলেন। অবশেষে বুধবার দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। কারামুক্ত হয়েই তিনি ফিরে যান নিজ গ্রামে, যেখানে অশ্রুসজল চোখে জিয়ারত করেন প্রিয়জনদের কবর।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যায় বাগেরহাটের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছান সাদ্দাম। সেখানে স্ত্রী ও সন্তানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর আগে, গত ২৩ জানুয়ারি তার স্ত্রী স্বর্নালী মানসিক বিষণ্নতা সইতে না পেরে নিজের ৯ মাসের সন্তানকে হত্যার পর আত্মঘাতী হন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
সেই সময় সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়নি বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হলেও কারাগারের গেটে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল সাদ্দামকে। সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ সাদ্দামকে মানবিক কারণে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। তার আইনজীবী জানান, সাদ্দামের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা ছিল না।
গত ৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়া সাদ্দাম প্রায় দেড় বছর পর বাড়িতে ফিরলেন, কিন্তু তার ফেরার আনন্দ আজ প্রিয়জন হারানোর দীর্ঘশ্বাসে ম্লান।
