গ্রিনল্যান্ড দখলের যে পরিকল্পনা ঠিক করেছেন তা থেকে পেছানো ঠিক হবে না বলে মনে করেন অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে মঙ্গলবার তিনি ন্যাটো মিত্রদের তুমুল সমালোচনার পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপটি জোরপূর্বক দখলও করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যেখানে ন্যাটোও সন্তুষ্ট হবে, আমরাও সন্তুষ্ট হবো বলে আমি মনে করি।
ওয়াশিংটনের এমন ‘জবরদস্তিমূলক চাহিদা’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ উসকে দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করেছে, যা গত বছর আটলান্টিকের এপারের ওপারের বাজার ও কোম্পানিগুলোকে অস্থির করে তুলেছিল।
আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যেখানে ন্যাটোও সন্তুষ্ট হবে, আমরাও সন্তুষ্ট হবো বলে আমার ধারণা: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের কমার্স সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অবশ্য এ ধরনের কিছু সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘অতিরিক্ত আতঙ্ক’ ছড়ানো হচ্ছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রোটার সঙ্গে কথা বলার পর মঙ্গলবার ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য জরুরী। এখানে পিছু হটার সুযোগ নেই, এ বিষয়ে সবাই একমত।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে তিনি ‘কতদূর যেতে প্রস্তুত’, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পরে বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাবেন’
তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে তার অনেকগুলো বৈঠক করার কথা রয়েছে।
‘সবকিছু চমৎকারভাবে সমাধান হবে বলেই আমার মনে হয়,’ বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প এ বিষয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁক্রোসহ অনেকের কিছু বার্তাও ফাঁস করেন। মাঁক্রোর বার্তাতে তাকে ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প কী করতে চান’ সে বিষয়ে প্রশ্ন করতে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য আগেই ফরাসী ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের দাবির কাছে মাথা নত করে গ্রিনল্যান্ড ছেড়ে দেবেন না।
‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা খারিজ করেননি। যে কারণে আমরাও এটা উড়িয়ে দিতে পারছি না,’ সাংবাদিকদের তিনি এ কথাই বলেছেন।

