এতে বলা হয়, গতকাল সারা দেশে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৮২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা আট হাজার ৫৩৪ জন। এদিকে গতকাল নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৯৯ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ছয় হাজার ১৬ জন।
মৃত্যুর হিসাবে গতকাল হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। একই সময়ে জেলার তালিকাতেও ঢাকায় সর্বোচ্চ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল হামে নিশ্চিত দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। গতকাল সন্দেহজনক হামে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১১৮ জনের।
এদিকে হাম প্রতিরোধে টিকাদান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে এনডিএফ। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সংগঠন আয়োজিত হামরোগ বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সিলেট : হামে সিলেটে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া ছয় মাস বয়সী রায়হান সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের সোহাগ গাজীর ছেলে।
বরগুনা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে বরগুনাকে হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ১৬৫ জনের মধ্যে ৩৫ জনের হাম এবং এক জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে, আরও ৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে হাম সন্দেহে তিন শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকে পরীক্ষা না করে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআর-এর চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমন বলেন, ‘সারা দেশেই হামের সংক্রমণ বাড়ছে, তবে বরগুনায় কেন বেশিÑ এ নিয়ে গবেষণা জরুরি।’
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
সুত্রঃ দেশ রূপান্তর
