ইরান ও অ্যামেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধের চার সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সৌদি আরবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামেরিকা-ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ছোঁড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১০ জন অ্যামেরিকান সেনা আহত হয়েছেন। সৌদির প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে হওয়া এই হামলায় একাধিক যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এক মাসের এই সংঘাতে দেশটিতে অবস্থানরত অ্যামেরিকার সামরিক সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি যখন চরম উত্তপ্ত, ঠিক তখনই সৌদি আরবের রিয়াদের কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবারের এই হামলায় ইরানি বাহিনী উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে অ্যামেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর। অ্যামেরিকার সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলায় আহত ১০ জন সেনার মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বাকি আটজনও মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন এবং তারা বর্তমানে নিবিড় সামরিক তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
কেবল সেনাসদস্যই নয়, ইরানের এই নিখুঁত নিশানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি ‘রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট’ বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান। স্যাটেলাইট ইমেজেও এয়ারবেসের রানওয়ে এবং বিমানের হ্যাঙ্গারে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসটি সৌদি আরবে অ্যামেরিকার বিমান বাহিনীর ৩৭৮তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং-এর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এক মাসের এই যুদ্ধে ইরান বারবার এ অঞ্চলে অ্যামেরিকার মিত্র দেশগুলোর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। এ নিয়ে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি অ্যামেরিকান সেনাসদস্য আহত হলেন। আর নিহত সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে।
সাউথ লনে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কথা জানিয়েছেন। যদিও তিনি বারবার দাবি করছেন ইরান এখন কোণঠাসা এবং শান্তির জন্য আলোচনা করতে চাইছে, তবুও রণক্ষেত্রের এই চিত্র ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই হামলা এটিই প্রমাণ করে যে, অ্যামেরিকা ও ইযরায়েলের তীব্র আক্রমণের মুখেও তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষ করে ড্রোনের বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অ্যামেরিকা যে এখনো কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তা এই হামলা থেকে স্পষ্ট। এর আগেও একই ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একজন অ্যামেরিকান সার্জেন্ট প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এদিকে, এই হামলার পরপরই রিয়াদ ও আশপাশের এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। যুদ্ধের এই নাজুক সময়ে এ ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি অ্যামেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে, বিশেষ করে যখন প্রশাসন দাবি করছে যুদ্ধ শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও সৌদি আরবের মাটিতে এই রক্তক্ষয়ী হামলা ইরান-অ্যামেরিকা সম্পর্ককে আরও জটিল মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
