জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর বড় ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। দেশত্যাগে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে তিনি বিদেশে পাড়ি জমালেন, তা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
দুবাইয়ে গোপন বৈঠক ও ষড়যন্ত্র…..
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল দুবাইয়ে একটি গোপন বৈঠকে অংশ নেন ফারাজ করিম চৌধুরী। সেখানে সাবেক স্বৈরশাসকের পিএস লিকু, রাউজানের চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ী জাবেদ এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী আকতারসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করা এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা তার পিতা ফজলে করিম চৌধুরীকে মুক্ত করতে তিনি আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগের চেষ্টা করছেন। এর জন্য আমিরাত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিশাল অংকের চাঁদা আদায়ের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাউজানের ত্রাস ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড…….
রাউজানের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রয়েছে গুম, খুন ও দখলদারিত্বের অসংখ্য অভিযোগ। ২০১০ সালে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জাফরকে গুম করা কিংবা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতা মুসাকে মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার নেপথ্যে ফজলে করিম ও তার ছেলে ফারাজ করিমের সরাসরি সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন চট্টগ্রাম শহরের মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটে ছাত্রদের ওপর ব্রাশফায়ারের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ফজলে করিমের নির্দেশেই সরবরাহ করা হয়েছিল বলে মামলার চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন…….
ফারাজ করিম চৌধুরীর মতো একজন হেভিওয়েট মামলার আসামি কীভাবে বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগ করলেন, তা নিয়ে এনসিপি চট্টগ্রাম জোনের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন তারা।
বর্তমানে ফারাজ করিম দুবাইয়ে বসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ব্যবহার করে ট্রাইব্যুনাল বিরোধী প্রোপাগান্ডা চালানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ন্যায়বিচারের দাবি…….
রাউজানের সাধারণ মানুষের দাবি, প্রোপাগান্ডা আর অর্থের জোরে যেন ইতিহাসের এই ভয়াবহ অপরাধগুলো ধামাচাপা পড়ে না যায়। জাফর চেয়ারম্যানের গুম কিংবা শহীদ ওয়াসিম-নুরুল আলমদের রক্তের ঋণ শোধ করতে ফজলে করিম ও তার উত্তরসূরিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে আন্তর্জাতিক অপরাধী হিসেবে ফারাজ করিমকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হয়।

