
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, আমেরিকার পদক্ষেপও ততটাই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। এখন নতুন করে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তা হলো— আমেরিকা অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তে এগোচ্ছে, আর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা অঞ্চলে মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনসহ অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো শুরু হয়েছে। ফলে প্রশ্নটা এখন আর “সেনা যাবে কি যাবে না”— সেটা না; বরং এই মোতায়েন কোথায় গিয়ে থামবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এই ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে চাপের রাজনীতি খেলছেন, অন্যদিকে যুদ্ধের দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করছেন না। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে, তবে একই সঙ্গে তিনি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও বলেছেন। অর্থাৎ, এক হাতে সামরিক চাপ, আরেক হাতে কূটনৈতিক বার্তা— ট্রাম্প এখন এই দুই পথেই এগোচ্ছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের “দুইমুখী সংকেত” সবচেয়ে বিপজ্জনক; কারণ এতে প্রতিপক্ষ ভুল হিসাব করতে পারে, আর ছোট সংঘাতও দ্রুত বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন স্টেইট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও জি-সেভেন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, আমেরিকা চায় এই অপারেশন “সপ্তাহের মধ্যে” শেষ হোক, “মাসের পর মাস” না গড়াক। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আমেরিকার লক্ষ্য ইরানকে চাপে রাখা এবং অঞ্চলটিতে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
তবে একই সময় তিনি এমন কথাও বলেছেন, যেটা থেকে বোঝা যায়— ওয়াশিংটন এখনো সব অপশন টেবিলে রেখেছে, যদিও তিনি দাবি করেছেন যে লক্ষ্য অর্জনে “গ্রাউন্ড ট্রুপ” বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে।
তাহলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কেন বলছেন, এটা ভুল সিদ্ধান্ত? প্রথম কারণ, ইরান সরাসরি বা পরোক্ষ পাল্টা হামলা বাড়াতে পারে। আমেরিকার ঘাঁটি, জাহাজ, কিংবা মিত্র দেশগুলো মিসাইল, ড্রোন বা প্রক্সি হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। দ্বিতীয় কারণ, এই সংঘাত শুধু ইরানে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; এটি ছড়িয়ে যেতে পারে হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় জ্বালানি রুট, এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় ভয় হলো— আমেরিকা আবারও মধ্যপ্রাচ্যের এমন এক দীর্ঘস্থায়ী সামরিক জটিলতায় ঢুকে যেতে পারে, যেখান থেকে বের হওয়া খুব কঠিন।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, “সেনা পাঠানো সহজ, কিন্তু যুদ্ধের শেষ লেখা কঠিন।” সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে আমেরিকার এই নতুন সেনা মোতায়েন এখন শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়— এটা রাজনৈতিক হিসাব, কূটনৈতিক বার্তা এবং সম্ভাব্য বড় যুদ্ধের পূর্বাভাসও। এখন দেখার বিষয়, আমেরিকা কি শুধু শক্তির প্রদর্শন করতে চাইছে, নাকি সত্যিই ধীরে ধীরে আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।

