অ্যামেরিকায় ২০২৬ সালের আয়কর রিটার্ন দাখিলের মৌসুম শুরু হচ্ছে আগামী ২৬ জানুয়ারি। ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) জানিয়েছে, করদাতারা ২০২৫ সালের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন ১৫ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত। চলতি ট্যাক্স মৌসুমে প্রায় ১৬৪ মিলিয়ন ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন জমা পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার বেশির ভাগই ইলেকট্রনিকভাবে দাখিল হবে।
আইআরএস করদাতাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, ট্যাক্স মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতারকদের তৎপরতা বেড়ে যায়। ফোন কল, ই-মেইল বা সন্দেহজনক লিঙ্কের মাধ্যমে কখনোই ব্যক্তিগত তথ্য যেমন সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, জন্মতারিখ, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইআরএস সাধারণত ফোন করে যোগাযোগ করে না। তারা করদাতাদের অনলাইন অ্যাকাউন্টে সিকিউর মেসেজ বা ডাকযোগে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকে।
চলতি মৌসুমে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এর আওতায় কিছু নতুন কর সুবিধা কার্যকর হচ্ছে। নতুন শিডিউল-১ ফর্ম ব্যবহার করে টিপস ও ওভারটাইমের আয়, গাড়ির ঋণের সুদ এবং প্রবীণদের জন্য বাড়তি কর্তনের সুবিধা দাবি করা যাবে।
আইআরএস করদাতাদের ব্যক্তিগত অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পাশাপাশি সরাসরি রিফান্ড পাওয়ার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ কাগজের রিফান্ড চেক ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১০৯৯-কে ও ১০৯৯-ডিএ ফর্মের আওতায় ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ডিজিটাল অ্যাসেট থেকে অর্জিত আয়ের তথ্য রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফর্ম হাতে না পেলেও সব করযোগ্য আয় রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক।
যোগ্য করদাতাদের জন্য আইআরএস ফ্রি ফাইল কর্মসূচি চালু রেখেছে। সামরিক সদস্যদের জন্য রয়েছে মিলট্যাক্স, আর স্বল্প আয়ের ও প্রবীণদের জন্য রয়েছে ভলান্টিয়ার ট্যাক্স সহায়তা কর্মসূচি। প্রয়োজনে করদাতারা ট্যাক্সপেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স সেন্টারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সরাসরি সহায়তা নিতে পারবেন।
আইআরএস ও কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক ও পূর্ণ তথ্য দিয়ে সততার সঙ্গে ট্যাক্স ফাইল করলে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। র্যান্ডম অডিট যে কারও হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে এনরোলড এজেন্ট বা সিপিএর সহায়তায় বিষয়টি সহজেই সমাধান করা সম্ভব।
