২০২৬ সালে বিশ্বে ৪০টিরও বেশি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব দেশের ১৬০ কোটি মানুষ তাদের সরকারপ্রধান নির্বাচন করবেন। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ মানুষ সাধারণ নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি, সংসদীয় ও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবেন। এসব দেশের নির্বাচনের ফলাফল দেশীয় নীতি, অর্থনৈতিক কৌশল ও বিশ্বব্যাপী জোটগুলোকে প্রভাবিত করবে। তাই, বছরব্যাপী এসব নির্বাচনগুলোর দিকে সবার নজর থাকবে।
মিয়ানমারে তিন দফায় ভোটগ্রহণ করা হয়। গত বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ১১ জানুয়ারি, শেষ ধাপে ২৫ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ করা হবে। মিয়ানমারে মোট ৩৩০টি শহরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উগান্ডায় জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পর্তুগালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে ১৮ জানুয়ারি।
ফেব্রুয়ারি

১ ফেব্রুয়ারি কোস্টারিকায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচন ৮ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছর শাসনের অবসান ঘটে। এরপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার বাংলাদেশের ভোটাররা একইসঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট ও তাদের সরকার গঠনে ভোট দেবেন। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত করার, বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে ২২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মার্চ
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালে মার্চের ৫ তারিখে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক হতাশার কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে উৎখাত করা হয়। আসন্ন নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। আসন্ন নির্বাচনে আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্রভাবে রূপান্তরিত করা, এবং দেশের ভবিষ্যত গঠনে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে বলে প্রচার করছেন নেপালের তরুণরা। এখন দেখা যাক, কী হয়।
মার্চের ১৫ তারিখে ভিয়েতনামে সংসদ নির্বাচন হবে। মধ্য ইউরোপের দেশ ভিয়েতনামে মার্চে ২২ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এপ্রিল
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে এই মাসেই। প্রেসিডেন্ট কে হবেন-এটি নির্ধারণে ১২ এপ্রিল ভোট দেবেন দেশটির জনগণ।
১২ এপ্রিল মধ্য ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরিতে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক জোট উভয়কেই প্রভাবিত করবে। হাঙ্গেরির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। তিনি যিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) যুদ্ধবাজ বলেছিলেন।
২০১০ সালে টিসজা পার্টির প্রার্থী পিটার ম্যাগিয়ারকে পরাজিত করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ভিক্টর অরবান। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। ২০২৬ সালের হাঙ্গেরির নির্বাচন গোটা ইউরোপের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলাফল দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করবে। এর মাধ্যমে ইইউ ও রাশিয়ার মধ্যে পরবর্তী সম্পর্ক কেমন হবে তা নির্ধারণ করবে। হাঙ্গেরির রাজনীতি ইউরোপীয় স্থিতিশীলতা ও ইউক্রেনের যুদ্ধের ওপর বিস্তৃত প্রভাব পড়তে পারে বলছেন বিশ্লেষকরা।
